কেন ব্লগিং করবেন

ব্লগিং জিনিসটা অনেকটা আর্টিফিসিয়াল। আমরা বঙ্গালী, বেশিরভাগ বাঙ্গালী ব্লগিং কে অন্য ভাবে দেখে যেমন ধরুন অনেকেই মনে করে নাস্তিক যারা তারা ব্লগিং করে, অর্থাৎ ব্লগারা নাস্তিক হয়। আবার অনেকেই মনে করে যারা আজাইরা থাকে তারা ইন্টারনেটে লেখা-লেখি করে। আমাদের দেশের অনেকেই এই চিন্তা ও মনোভাব পোষণ করে। কিন্তু আসলেই কি তাইঃ-

আমরা প্রযুক্তিতে অনেকটা সামনে এগিয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয় যতাটা সামনে এগিয়েছি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে ততটাই পিছিয়েছি।

 

আজকাল খুজে পাওয়া কঠিন হবে হয়ত, বাংলাদেশের কোন প্রত্তন্ত গ্রামের কিশোর কিশোরী থেকে ৬০ বছরের জৈষ্ঠ্য ব্যক্তি ফেসবুক সম্পর্কে জানে না।বা ফেসবুকের একাউন্ট নাই।

বাংলাদেশ থেকে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রতিদিন গড়ে ৪ ঘন্টার ও বেশী সময় ফেসবুকে ব্যয় করে থাকে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৬৩ ভাগ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। আমরা প্রযুক্তিতে অনেকটা সামনে এগিয়েছিসরি এখানে প্রযুক্তি বলা বোধ হয় ঠিক হবে না আমরা ফেসবুক ব্যবহারে সামনের দিকে এগোচ্ছি।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আমরা ফেসবুকেই করছি। অন্যকোন ক্ষেত্রে চেষ্টা ত দূরের কথা দেখি পর্যন্ত না।

এবার ব্লগিং নিয়ে কথা বলি- আসলে ব্লগিং জিনিসটা কি? আসলে ব্লগিং হচ্ছে আপনার স্বাধীন মত প্রকাশের একটি ক্ষেত্র তবে ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় অনুশাসন মেনে।

কিন্তু আমাদের দূর্বলতাটি হচ্ছে আমরা যারা ব্লগিং বা লেখা-লেখি করি তারা শুধু মাত্র নিজেদের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের আশেপাশের মানুষ গুলোকে কিন্তু এই সম্পর্কে সচ্ছ ধারনা দিতে পুরাপুরি ব্যর্থ।

 

আমরা একটু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কে লক্ষ্য করি বিশ্বের সেড়া ১০জন ব্লগারের মধ্যে ভারতের ৩জন ব্লগার রয়েছে। তারা শুধুমাত্র ব্লগিংকে প্রফেশন হিসাবে নিয়েছে। আর তারা এখন মিলিয়ন ডলারের মালিক। ভরতে ব্লগিং সম্পর্কে সরকার তথা জনগন যতটা সদইচ্ছুক ততটা আমাদের মনে হয় সরকার বা জনগনের ধরনা নেই। ব্লগিং কে প্রফেশন হিসাবে নেওয়াটা বোধ হয় আমাদের দেশ থেকে ঠিক নয় এই চিন্তাটাই সবার মনে কাজ করে।

 

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা গুটি কয়েকটি ব্লগে দু-একবার লেখালেখি করেছেন। হয়তাবা এমন চিন্তা করে আমি কি বাংলাদেশের সেড়া ব্লগারদের মধ্যে থাকতে পারব নাকি! তাই এত কষ্ট করে লেখালেখি করার কি প্রয়োজন।

কিন্তু একটি বার ও কি চিন্তা করেছেন নিয়মিত ব্লগিং করলে হয়তবা সেড়া কয়েকজনে তালিকায় থাকতে পারব না কিন্তু নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্লগার হিসাবে পরিচয় দিতে পারব।

 

এবার আসুন ব্লগিং করে লাভ টা কি? ব্লগিং করে অর্থ উপার্জনের দিকটি হচ্ছে আপনি আপনার চিন্তা চেতনা ধারনা টিপস ট্রিক্স ইত্যাদি মানুষের কাছে বিক্রি করবেন তবে এটা সরাসরি নয় পরোক্ষ ভাবে।

এবার বলি ব্লগিং করে কিভাবে অর্থ উপার্জন করেঃ- আমরা অনেক সময় কোন কিছু বিস্তারিত জানার জন্য ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করি। বিশেষ করে গুগুল। যখন কোন অর্ডিনারি বিষয় লিখে গুগুলে সার্চ দিই তখন গুগুল আমাদের কে কিছু লিঙ্ক দেয় আমরা তখন এই লিঙ্কগুলোতে প্রবেশ করি, এখন কথা হচ্ছে গুগুল কেন প্রথম পেজে এই লিঙ্ক গুলো দেয়? এর কারন হচ্ছে লেখাগুলো মানসম্মত তাই গুগুল এই এই লিঙ্ক গুলো প্রথম পেজে শেয়ার করে।

তারমানে যে কোন বিষয়ে মানসম্মত লেখালেখি করলে অর্থ উপার্জন সহজ হয়ে যায়।