অ্যাপ ডেভলপার হওয়ার জন্য ৭টি জরুরী বিষয় জানা প্রয়োজন

গ্লোবালাইজেশনের অনুকরণে বলা যায় এখন মোবালাইজেশনের যুগ। স্মার্টফোনের ব্যবহারে বিশ্ব সবার হাতের মুঠোয়। বিশেষ করে অ্যাপের কারণে সব কিছুই আগের চেয়ে অনেক সহজ।

স্মার্টফোন বা ট্যাব এতটাই কার্যকরি ডিভাইস হয়ে উঠেছে যে, এগুলো দিয়ে কম্পিউটারের প্রায় সব কাজ করা যায়। এটি সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপের কল্যাণেই। ডেভেলপারদের ক্লান্তিহীন পরিশ্রম ব্যবহারকারীদের ডিভাইস ব্যবহারে প্রতিনিয়ত অন্য মাত্রা যোগ করছে।

একজন ভালো মানের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপার হতে হেলে যে সাতটি দরকারি স্কিল আপনার লাগবে তা নিয়ে এ টিউটোরিয়াল।

জাভা
জাভা ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট দু’টি অবিচ্ছেদ্য ব্যাপার। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানাতে জাভা জানা জরুরি। আপনি যদি কোনো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ভালো করে জানেন, সেক্ষেত্রে জাভাতে সুইচ করা আপনার জন্য কঠিন কিছু হবে না।

জাভার বিশেষ দিক হলো- এটি অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড সাপোর্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।

ভালো অ্যাপ ডেভেলপ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই জাভাতে সুদক্ষ হতে হবে।

mobile-app-developer

এক্সএমএল জ্ঞান
প্রাথমিকভাবে এক্সএমএল সৃষ্টির পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ডাটা বহন। অ্যান্ড্রয়েডে মূলত এক্সএমএলের ব্যবহার হচ্ছে লেআউট ডিজাইন ও এর মধ্যে অ্যাট্রিবিউট স্থাপনের কাজে।

এ অ্যাট্রিবিউটের ভ্যালুগুলো বহন করে অ্যান্ড্রয়েডের এক্সএমএল। মূলত জাভা যুক্ত থাকে এক্সএমএলের সাথে।

একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের যেই ইন্টারফেস আমরা দেখতে পারি তা সাধারণত ডিজাইন করা হয় এক্সএমএল দিয়ে ও এর কাজগুলো হয় জাভা প্রোগ্রামিং দিয়ে।

এ কারণে অ্যাপ ডেভেলপরের কাজ করতে গেলে সাধারণভাবে এক্সএমএলের বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে।

অ্যান্ড্রয়েড এসডিকে
এসডিকে হচ্ছে সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট কিট। এটা মূলত টুলবক্সের মতো। যখন আপনি অ্যান্ড্রয়েড এসডিকে ডাউনলোড করে এতে কাজ করছেন, তখন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ক্যামেরা, সাউন্ড, সেন্সর ইত্যাদির মতো টুলসগুলো আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

এসডিকে আসলে অনেকগুলো ক্লাস, যেগুলো এক্সেস করে আমাদের মতো করে অ্যাপ ডেভেলপ করতে পারি।

download (1)

অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও
অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও হচ্ছে একটি আইডিই- ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট। এটি আসলে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপের এনভায়রনমেন্ট সৃষ্টি করে দেয়, যেখানে ডেভেলপার জাভা কোড, এক্সএমএল কোড লিখতে পারবে।

এ ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিওয়ের সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড এসডিকে যুক্ত করিয়ে ভার্চুয়াল ডিভাইস তৈরি করে তাতে ডেভেলপ করতে থাকা অ্যাপ পরীক্ষা করা যায়।

বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপ করতে গেলে অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিওয়ের বিকল্প নেই, যদিও আগে ইক্লিপ্স আইডিই-এর সঙ্গে এসডিকে যুক্ত করে করা যেত।

ডেটাবেজ
ডেটাবেজ ডিজাইন ও ডেটাবেজ নিয়ে কাজ করতে পারা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপর। অ্যাপ ডেভেলপ করতে গেলে অনেক সময় বড় পরিমানে ডেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। তখন সেগুলোকে স্টোর করা, তারপর রিড ও রাইট করতে জানতে হবে।

তাই ডেটাবেজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা ও সেটা নিয়ে কাজ করতে পারার কৌশলগুলো জানা জরুরি।

api-services

এপিআই
এপিআইয়ের পূর্ণরূপ হচ্ছে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস। অ্যাপ ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে গেলে সার্ভার রিলেটেড কাজ অবশ্যই করতে হবে একজন ডেভেলপারকে।

সার্ভারের সঙ্গে অ্যাপের কমিউনিকেশন করাতে হলে আবশ্যক ব্যপার হচ্ছে এপিআই। সহজ ভাষায় ওয়েবের সঙ্গে অ্যাপের সংযোগ সক্ষমতা হচ্ছে এপিআই।

ডেভেলপার হিসেবে কাজটি জানতেই হবে আপনাকে। তাছাড়া সার্ভার সম্পর্কিত অ্যাপ বানানো সম্ভব হবে না। সার্ভারের সঙ্গে এপিআই দিয়ে যোগাযোগ করার জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- এক্সএমএল পার্সিং ও জেসন পার্সিং।

ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন
বড় ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিগুলো পণ্যের ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন নিয়ে গভীরভাবে খুব একটা চিন্তা করেনি। তবে সম্প্রতি গুগল ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন নিয়ে তাদের চিন্তার ব্যাপারটি পরিষ্কার করেছে। টেক জায়ান্টটি তাদের প্রায় সব প্রডাক্টে ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন যুক্ত করেছে।

ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন হচ্ছে একটি ইন্টারফেসের কম্পোনেন্টগুলো ম্যাটেরিয়ালের মতো দেখাবে, যেগুলোর মিনিমাম একটা ড্রপ শ্যাডো থাকবে।

গুগল যেহেতু ম্যাটেরিয়াল ডিজাইনের দিকে নজর দিচ্ছে, তাই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে ভালো করতে হলে এ সম্পর্কে জানা ও তা কাজে প্রয়োগ করার উপায় জানা থাকলে তা বেশ কাজে দেবে।

LEAVE A REPLY